Showing posts with label অজানা. Show all posts
Showing posts with label অজানা. Show all posts

বরিশাল গানস অথবা গানস অফ বরিশালের রহস্য

আষ্টাদশ শতাব্দির শেষের দিকে তখনকার পূর্ববাংলার দক্ষিনাঞ্চালে এক ধরনের বিকট এবং আজব ধরনের শব্দ শোনা যেতো। তার নাম করন করা হয় বরিশাল গানস অথবা গানস অফ বরিশাল। এই ধরনের শব্দকে বলা হয় মিস্টপুফার্স। শব্দের আকার ছিলো অনেক বড়। শব্দটা কিছুটা কামানের শব্দের মত শুনতে ছিল। কিন্তু আজব ব্যপার হলো কেউই কোন দিন এই শব্দের উৎস সম্পর্কে জানতে পারেনি।এখনও সেই শব্দ একটি রহস্য হয়ে থেকে গেছে।
বরিশাল গানস
নথিপত্রে বরিশাল গানসের কথা প্রথমে উল্লেখ করা হয় ১৮৭০ সালে। ১৮৮৬ সালে কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি তথ্য অনুযায়ী বরিশাল সহ খুলনা, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, হরিশপুর ইত্যাদি অঞ্চলে গানস অফ বরিশাল এর বিকট শব্দ শোনা গেছে। ১৮৯০ সালে টি.ডি.লাতুশ তার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে বরিশাল গানস কেবল গাঙ্গেয় দ্বীপ নয় ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপেও শোনা গেছে। মাঝে মাঝে একটি শব্দ শোনা যেতো আবার কখনো বা দুইট বা তিনটি শব্দও শোনা যেতো। শব্দগুলো বেশি শোনা যেতো দক্ষিন ও দক্ষিন-পূর্বাঞ্চল থেকে। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে শব্দগুলো বেশি শুনতে পাওয়া যেতো। ব্রিটিশরা প্রথমে ধারনা করেছিলো জলদস্যুদের কামানের আওয়াজ কিন্তু তারা কোথাও জলদস্যুদের জাহাজ কিবং তাদের ঘাঁটি খুজে পান নি। ঊনবিংশ শতকে গানস অফ বরিশাল ব্যপক তোলপার সৃষ্টি করে। পরে তার আরো কিছু অনুমান করেছিলেন কিন্তু তার কোনটাই আজও প্রমান করা সম্ভব হয় নি।

অনেকের ধারনা ছিল ভূমিকম্প, কেউ কেউ বলত বজ্রপাত আবার কারো মতে মোহনার ঢেউয়ের আঘাত ইত্যাদি। কিন্তু এ সবগুলোই ছিলো কেবল ধারনা মাত্র। গানস অফ বরিশালের রহস্য আজও আমাদের কাছে অজানা।

বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি সুফিয়া কামাল তার আত্মজীবনীমূলক বইতে গানস অফ বরিশালের কথা উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য মতে ১৯৫০ সালের পরে এই শব্দ আর শোনা যায়নি।

বরিশালের মত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ধরনের শব্দ শোনা গেছে। তবে তার অনেকেই একে অন্য নামে ডাকে। ভারতের গঙ্গার তীরে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে, নেদারল্যান্ডস, ফিলিপাইন, জাপান, বেলজিয়াম, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড ও উত্তর সাগরসহ বেশ কিছু দেশে এই রহস্যময় শব্দ শোনার কথা জানা যায়।

গানস অফ বরিশাল নামে একটি ব্যান্ড দল আছে যুক্তরাষ্ট্রে

আজব রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল ও তার রহস্য

বর্তমানে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্যময় এলাকা পৃথিবীর অন্যতম একটি রহস্যময় স্থান।বারমুডা নিয়ে অনেক কথা বা কাহীনি প্রচলিত আছে। এখানে আসা সব নাবিকের এক ধরনের ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানা যায়। অনেক সময় জাহাজ কিংবা উড়োজাহাজ অজানা জগতে হারিয়ে যায়। এমন কি মানুষ পর্যন্ত হারিয়ে যায়। পরে এদের আর কোন হদিস পাওয়া যায় না। যদিও এর বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি। কিন্তু তার পরেও প্রশ্ন একটিই, এত জায়গা থাকতে এত সব ঘটনা এখানেই কেন ঘটে।
রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল
অতীতে যেসব বিখ্যাত ব্যক্তিরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল সম্পর্কে লিখেছেন তাদের মধ্যে ক্রিস্টোফার কলম্বাস একজন। তিনি ১৪৯২ সালে তার লগ বইতে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের সর্ম্পকে লিখেছেন, এখানে আসার পরে তার কম্পাস কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং উল্টাপাল্টা দিক নির্দেশনা করে। তার নাবিকেরা আকাশে আলোর নাচানাচি দেখেছে।

"The land was first seen by a sailor (Rodrigo de Triana), although the Admiral at ten o'clock that evening standing on the quarter-deck saw a light, but so small a body that he could not affirm it to be land; calling to Pero Gutiérrez, groom of the King's wardrobe, he told him he saw a light, and bid him look that way, which he did and saw it; he did the same to Rodrigo Sánchez of Segovia, whom the King and Queen had sent with the squadron as comptroller, but he was unable to see it from his situation. The Admiral again perceived it once or twice, appearing like the light of a wax candle moving up and down, which some thought an indication of land. But the Admiral held it for certain that land were near..."

এর পরেও অনেক মানুষ বারমুড ট্রায়াঙ্গেলের পগলামির সম্মূখীন হয়েছে।অনেকে ফিরে আসতে পেরেছি আর অনেকে হারিয়ে গেছে। বারমুডা জনসাধারনের সামনে আসে ১৯৫০ সালে যখন ই. ভি. ডব্লিউ. জোন্স (E.V.W. Jones) প্রথম সংবাদপত্রে বারমুডা ট্রায়েগেলের কথা লিখেছিলেন। এর দুই বছর পরে ফেইট (Fate) ম্যাগাজিনে জর্জ এক্স. স্যান্ড “সী মিস্ট্রি এট আওয়ার ব্যাক ডোর” ("Sea Mystery At Our Back Door") নামে একটি প্রবন্ধ লিখেন। ১৯৬২ সালের এপ্রিল মাসে ফ্লাইট নাইনটিন নিয়ে আমেরিকান লিজান (American Legion) ম্যগাজিনে লিখা হয়। বলা হয়ে থাকে এই ফ্লাইটের দলপতি কে নাকি বলতে শোনা গিয়েছে- We don't know where we are, the water is green, no white। এর অর্থ হল "আমরা কোথায় আছি জানি না, সবুজ বর্ণের জল, কোথাও সাদা কিছু নেই"। এতেই প্রথম ফ্লাইট নাইনটিনকে কোন অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার সাথে যুক্ত করা হয়। এরপর ভিনসেন্ট গডিস (Vincent Gaddis) “প্রাণঘাতী বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল”( The Deadly Bermuda Triangle) নামে আর এক কাহিনী ফাঁদেন ১৯৬৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর উপর ভিত্তি করেই তিনি আরও বিস্তর বর্ণনা সহকারে লিখেন "ইনভিজিবল হরাইজন" (Invisible Horizons) মানে “অদৃশ্য দিগন্ত” নামের বই। আরও অনেক লেখকই নিজ নিজ মনের মাধুরী মিশিয়ে এ বিষয়ে বই লিখেন, তাঁরা হলেন জন ওয়ালেস স্পেন্সার, তিনি লিখেন "লিম্বো অফ দ্যা লস্ট" (Limbo of the Lost, 1969, repr. 1973), মানে “বিস্মৃত অন্তর্ধান”; চার্লস বার্লিটজ (Charles Berlitz) লিখেন “দি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল”(The Bermuda Triangle, 1974), রিচার্ড উইনার লিখেন "দ্যা ডেভিল'স ট্রায়াঙ্গেল" “শয়তানের ত্রিভূজ” (The Devil's Triangle, 1974) নামের বই, এছাড়া আরও অনেকেই লিখেছেন। এরা সবাই ঘুরেফিরে একার্ট ( Eckert) বর্ণিত অতিপ্রাকৃতিক ঘটানাই বিভিন্ন স্বাদে উপস্থাপন করেছেন।

আলোচিত ঘটনা সমূহ:

প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে গভীর সমুদ্রে যাতায়াত করেছেন টেডি টাকার নামের এক ডুবুরি। কয়েক বছর আগের কথা। একদিন সকালবেলা বারমুডার বেলাভূমিতে টেডি একটি অদ্ভুত বস্তু দেখতে পেলেন। সেটি ছিল ১৫০০ থেকে ২০০০ পাউণ্ড ওজনের উজ্জ্বল সাদা একটি পিণ্ড। স্থানীয় লোকেরা ওই রহস্যময় বস্তুটির নাম দিল বারমুডা ব্লপ। সেটি পরীক্ষা করে টেডি বলেন, 'জিনিসটি যে জৈব পদার্থ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এরকম কোনো প্রাণী কখনও দেখা যায়নি।এই পিণ্ডের একটি টুকরা কেটে নিয়ে গবেষণা করাহলো মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে। সেখান থেকে তথ্য পাওয়া গেল, ওই পিণ্ডটি কোনো প্রাণীদেহেরই অংশ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি খুব অদ্ভুত কোনো কোলাজেন টিউমার। আর সেটি অবশ্যই কোনো বড়সড় জলচর প্রাণীর। যেমন তিমি। কিন্তু আরেক দল গবেষক বলেছেন, ওটি একটি প্রকাণ্ড অক্টোপাস। রহস্যময় ব্যাপার হলো_ পিণ্ডটি বেলাভূমিতে পড়ে থেকে থেকে শেষ পর্যন্ত ভেঙে টুকরা টকুরা হয়ে যায়। অথচ তাতে এতটুকু পচন ধরেনি। বারমুডার এই নতুন রহস্যের মীমাংসা হয়নি। বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্যময় সব অন্তর্ধানের কারণ নিয়ে অনেকগুলো তত্ত্ব দাঁড় করানো হয়েছে। কেউ বলেছেন, ওখানকার সমুদ্রে বা আকাশে আস্ত একটা ফাটল আছে। প্রকৃতির সেই রহস্যময় ফাটলে পড়ে বিমান বা জাহাজ হারিয়ে যায় চিরকালের মতো। কেউ বলেন, অজানা এক সভ্যতার কথা, যেখানে আগুনের গোলা লাফিয়ে ওঠে। বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায় সব জাহাজ ও উড়োজাহাজ। কারো মতে, ওই অঞ্চলে পৃথিবীর অভ্যন্তরে ভূমিকম্পের জন্য বিশাল জলস্তম্ভ জাহাজ, উড়োজাহাজ সবকিছুকে নিজের গহবরে টেনে নেয়। কেউ বলেছেন, অন্য গ্রহের প্রাণী বা এই জাতীয় কিছু, যা আপাতদৃষ্টিতে অবিশ্বাস্য। কেউ আবার ব্যাখ্যা করেছেন ফোর্থ ডাইমেনশন বা চতুর্থ মাত্রার। তাদের মতে, সময়ের একটা অনন্ত ফাটল ওই অঞ্চলে সক্রিয় থাকে। ওইসব জাহাজ ও বিমান সময়ের সেই রহস্যময় ফাটলে পড়ে হারিয়ে যায় বর্তমান কালের কাছ থেকে। তারা চলে যায় সুদূর অতীতের কোনো সময়ে। নয়তো ভবিষ্যতের গর্ভে। কেউ আবার চুম্বকীয় তত্ত্বের মাধ্যমে রহস্যটি মীমাংসা করতে চেয়েছেন। তাদের মতে, ওই অঞ্চলে আকাশ ও সমুদ্রের মধ্যে এক তড়িতাহত ক্রিয়া-বিক্রিয়া ঘটে থাকে। সেখানে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র। কারো মতে, ওই রহস্যময় অংশে পর্যায়ক্রমে অজানা এই রাসায়নিক যৌগের সৃষ্টি হয়। সেই যৌগ যাবতীয় ইচ্ছাশক্তি ও ইন্দ্রিয়ের অনুভূতিকে অবশ করে দেয়। সমুদ্রের মধ্যে বিভিন্ন বিপাকক্রিয়ার ফলে এক অজানা জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া চলে। এর ফলে সেখানে রহস্যময় ঘটনাগুলো ঘটেছে।

ফ্লাইট নাইনটিন (Flight 19)

মার্কিন বিমান বাহিনীর TBF Grumman Avenger flight যা দেখতে অনেকটা ফ্লাইট নাইনটিন এর মত, তাই অনেক লেখক এই ছবিকে ফ্লাইট নাইনটিন বলে চালিয়েছেন। (US Navy) ফ্লাইট ১৯, ৫টি টিভিএম আভেঞ্জার টর্পেডো বোমারু বিমানের একটি, যেটি প্রশিক্ষণ চলাকালে ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর আটলান্টিক মহাগারে নিখোঁজ হয়। বিমানবাহিনীর ফ্লাইট পরিকল্পনা ছিল ফোর্ট লডারদেল থেকে ১৪৫ মাইল পূর্বে এবং ৭৩ মাইল উত্তরে গিয়ে, ১৪০ মাইল ফিরে এসে প্রশিক্ষণ শেষ করা। বিমানটি আর ফিরে আসেনি। নেভি তদন্তকারীরা নেভিগেশন ভুলের কারনে বিমানের জ্বালানীশূন্যতাকে বিমান নিখজের কারণ বলে চিহ্নিত করে। বিমানটি অনুসন্ধান এবং উদ্ধারের জন্য পাঠানো বিমানের মধ্যে একটি বিমান পিবিএম ম্যারিনার ১৩ জন ক্রুসহ নিখোঁজ হয়। ফ্লোরিডা উপকূল থাকা একটি ট্যাঙ্কার একটি বিস্ফোরণ দেখার রিপোর্ট করে ব্যাপক তেল দেখার কথা বলে কিন্তু উদ্ধার অভিযানে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। দুর্ঘঘটনা শেষে আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ হয়ে উঠে। সূত্র মতে, সমসাময়িক কালে বাষ্প লিকের কারনে পুরা জ্বালানী ভর্তি অবস্থায় বিস্ফোরণ ঘটার ইতিহাস ছিল।


ইউ এস এস সাইক্লপস ( USS Cyclops)

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ- ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক (যুদ্ধ ছাড়া) ক্ষতি হচ্ছে ইউ এস এস সাইক্লপস নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। অতিরিক্তও ম্যাঙ্গানিজ আকরিক ভর্তি বিমানটি ১৯১৮ সালের ৪ মার্চ বার্বাডোস দ্বীপ থেকে উড্ডয়নের পর একটি ইঞ্জিন বিকল হয় এবং ৩০৯ জন ক্রুসহ নিখোঁজ হয়। যদিও কোন শক্ত প্রমান নেই তবুও অনেক কাহিনি সনা যায়। কেউ বলে ঝড় দায়ী, কেউ বলে ডুবে গেছে আবার কেউ এই ক্ষতির জন্য শত্রুপক্ষকে দায়ী করে।  উপরন্তু, সাইক্লপস-এর মত আর দুইটি ছোট জাহাজ প্রোটিউস এবং নেরেউস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ হয়। সাইক্লপসের মত এই জাহাজদুটিতেও অতিরিক্তও আকরিকে ভর্তি ছিল। তিনটি ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত মালামাল ধারণে অক্ষমতার (ডিজাইনগত) কারনেই জাহাজডুবি হয় বলেই ব্যাপক ধারনা করা হয়।


ডগলাস ডি সি-৩(Douglas DC-3)

২৮ ডিসেম্বর ১৯৪৮ সালে একটি ডগলাস ডিসি - ৩, ফ্লাইট নাম্বার NC16002, সান জুয়ান, পুয়ের্তো রিকো থেকে মিয়ামি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। বিমান থাকা ৩২ জনসহ বিমানটির কোন হদিস পাওয়া যায়নি। সিভিল এরোনটিক্স বোর্ড তদন্ত নথিপত্র থেকে বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার সম্ভাব্য একটি কারন পাওয়া যায়, সেটি হল - বিমানের ব্যাটারি ঠিকমত চার্জ না করে পাইলট সান জুয়ান থেকে রওনা দেয়। কিন্তু এটা সত্যি কিনা তা জানা যায়নি



বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে যারা লিখেছেন:

1. Gian J. Quasar (2003)। Into the Bermuda Triangle: Pursuing the Truth Behind the World's Greatest
    Mystery  ((Reprinted in paperback (2005) ISBN 0-07-145217-6) সংস্করণ)।
2. International Marine / Ragged Mountain Press। আইএসবিএন 0-07-142640-X।
3. Charles Berlitz (1974)। The Bermuda Triangle (1st সংস্করণ)। Doubleday। আইএসবিএন 0-385-04114-4।
4. Lawrence David Kusche (1975)। The Bermuda Triangle Mystery Solved। আইএসবিএন 0-87975-971-2।
5. John Wallace Spencer (1969)। Limbo Of The Lost। আইএসবিএন 0-686-10658-X।
6. David Group (1984)। The Evidence for the Bermuda Triangle। আইএসবিএন 0-85030-413-X।
7. Daniel Berg (2000)। Bermuda Shipwrecks। আইএসবিএন 0-9616167-4-1।
8. Richard Winer (1974)। The Devil's Triangle। আইএসবিএন 0553106880।
9. Richard Winer (1975)। The Devil's Triangle 2। আইএসবিএন 0553024647।
10. Adi-Kent Thomas Jeffrey (1975)। The Bermuda Triangle। আইএসবিএন 0446599611।

আরো কিছু লিংক দেওয়া হলো সেখানে আরো তথ্য পাবেন
১.  http://www.docksideconsultants.com/wavessup.html
২.  http://www.scifi.com/trianglesecrets/
৩. http://www.history.navy.mil/faqs/faq8-1.htm

Tunguska বিষ্ফোরণ এখনও সবার নিকট অজানা রহস্য

১৯০৮ সালের ৩০শে জুন রাশিয়ার সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদের উত্তর-পশ্চিমের দুর্গম পার্বত্য এলাকা টাঙ্গুস্কায় ঘটেছিল এক প্রচন্ড শক্তির বিস্ফোরন।এটি ছিল হাইড্রোজেন বোমা আবিস্কারের আগ পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম বিস্ফোরন। সে বিস্ফোরনের শক্তি ছিল হিরোশিমার পারমানবিক বোমার চেয়ে ১০০০ গুন বেশী শক্তি শালী। কি ছিল সেই বিস্ফোরন? আজ ১০৪ বছর পরেও সে প্রশ্নের সঠিক উত্তর মেলেনি।
Tunguska blasts
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার এ এলাকায় জনবসতি নেই বললেই চলে। অল্প কিছু আদিবাসী “ইভেঙ্কি” বাস করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দূরে দূরে । তখন গরমকাল,সকাল বেলা। সুর্য্যের মত উজ্জ্বল এবং উত্তপ্ত নীল আগুনের কুন্ড নেমে এল আকাশ থেকে। ৭-১৭ মিনিটে আঘাত হানল সে আগুন। এর প্রচন্ড শব্দ মনে হল লক্ষ কোটি কামান যেন একসাথে গর্জে উঠল, ৫০০ মাইল দুরেও শোনা গেল সে শব্দ। আশেপাশের সমস্ত কিছু কেপে উঠল প্রচন্ড শক ওয়েভে। মুহুর্তের মধ্যে তা মাটিতে শুইয়ে দিল পাহাড়ী নদী টাঙ্গুস্কার আশেপাশের গাছপালাকে, উপড়ে ফেলল শ’কিলোমিটার দুরের বাড়ী ঘরদোর। প্রচন্ড শব্দে চিরতরে শ্রবনশক্তি হারাল পশু চারনকারীরা। শুন্যে তুলে মাটির উপর আছড়ে ফেলল মানুষজন গবাদিপশুদেরকে। বিস্ফোরনে পুড়ে যাওয়ার পর শুরু হল কালো ছাইয়ের বৃস্টি, চলল কয়েকদিন। ঘটনাস্থল থেকে ৪০০ মাইল দূরে কানস্ক( Kansk) শহরে চলন্ত ট্রেন কেপে উঠে থেমে গেল। মনে হল গোটা ট্রেনটাই ছিটকে পড়বে রেললাইন থেকে। সীট থেকে আছড়েপড়ল যাত্রীরা। বিস্ফোরনস্থল জনমাননশুন্য হওয়াতে কোন প্রানহানি ঘটে নি।
৫০০ মাইল দুরের নিকটতম ইর্খটুস্কের ভুমিকম্প পর্যবেক্ষন কেন্দ্র তা রেকর্ড করল ভূমিকম্প হিসেবে। ১০,০০০ কিলোমিটার দূরে লন্ডনে বায়ুমন্ডলের চাপের তারতম্য ধরা পড়ল। পৃথিবীর উলটো দিকের ওয়াশিংটনের সিসমোগ্রাফ যন্ত্র জানান দিলো এই বিস্ফোরনের।

এই বিস্ফোরনের মাত্রা ছিল ১০-১৫ মেগাটন টি,এন,টি’র সমান শক্তির। পারমানবিক বোমার আগে সবচে’ শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল টি,এন,টি বা ট্রাই,নাইট্রো টলুয়েন(TNT= Tri nitro toluene) আর মেগাটন সমান হল ১০ লক্ষ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ১কোটি ৫০ লক্ষ টন টি,এন,টি র সমান ছিল এর শক্তি। তাপমাত্রা উঠেছিল ৫০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। এই বিস্ফোরন ছিল এ যাবৎ কালের সবচে বড় পারমানবিক বোমা রাশিয়ার “ জার বোম্বা”র তিনভাগের এক ভাগ সমান শক্তির। ২১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে আনুমানিক ৮ কোটি গাছকে মাটির সাথে শুইয়ে দিয়েছিল এ বিস্ফোরন। যে কোন বড় মেট্রোপলিটান শহরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য যথেস্ট শক্তিশালী ছিল এই বিস্ফোরন।

Tunguska blasts
ইতিহাস- এতবড় বিস্ফোরন কিন্তু ছিল অনেকটাই উপেক্ষিত। ১৯১৪ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব, গৃহযুদ্ধ ইত্যাদি কারনে টাঙ্গুস্কা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য হয় নি। অবশেষে ১৯২১ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ মিউজিয়ামের উল্কা সংগ্রহের প্রধান কিউরেটর ভ্লাদিমির কুলিকের নেতৃত্বে প্রথম বৈজ্ঞানিক অভিযান হল টাঙ্গুস্কায়। সাইবেরিয়ার চরম বৈরী আবহাওয়ায় তার দল সেবার ঘটনাস্থল কেন্দ্রে পৌছাতে পারে নি।.১৯২৭ সালে দ্বিতীয়বার অভিযানে এলেন কুলিক। নিকটবর্তী ইভেঙ্কি আদিবাসীরা এ বিস্ফোরন নিয়ে কোন তথ্য দিতে চায়নি কুলিকের দলকে। তাদের বিশ্বাস ছিল সেদিনের সে বিস্ফোরনে দেবতা “ওগডি” অভিশাপ দিয়ে ধ্বংশ ধ্বংশ করেছিলেন সে এলাকার গাছপালা, পশুপাখি। দ্বিতীয় অভিযানে বিস্ফোরন স্থলের দক্ষিনে এসে থেমে গেল কুসংস্কারাচ্ছন্ন এভেঙ্কী শিকারীরা। ফিরে এসে নতুন গাইড নিয়ে অবশেষে কুলিকের দল পৌছান বিস্ফোরন এলাকায়। পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে কুলিক দেখলেন মাইলের পর মাইল জুড়ে ধ্বংশযজ্ঞ। দৈত্যাকৃতি প্রজাপতির আকারের ৮০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ধ্বংশপ্রাপ্ত বনজঙ্গল। আশ্চর্যের বিষয় হল উল্কাপিন্ডের আঘাতে সৃস্ট কোন গর্ত খুজে পেলেন না কুলিক। কেন্দ্র স্থল থেকে উল্টো দিকে উপড়ে পড়েছে পুড়ে যাওয়া গাছপালা। কিন্তু কেন্দ্রে ঠাই দাঁড়িয়ে আছে ডালপালাহীন বাকল ছিলে নেওয়া গাছগুলো। হিরোশিমার পারমানবিক বিস্ফোরনের পর একই ধরনের ডালপালা খসে পড়া, বাকল ছিলে যাওয়া লক্ষ করেন বিজ্ঞানীরা। ১৯৩৮ সালে বিমান থেকে এ এলাকার জরীপ করা হয়। এরপর আরো তিনবার এ এলাকায় অভিযান চালান কুলিক। কিন্তু বিস্ফোরনের আঘাতের চিহ্নস্বরুপ কোন গর্ত খুজে পাওয়া যায় নি। ১০ থেকে ৩০ মিটার মাপের বিভিন্ন আকৃতির গর্ত পান কুলিক কিন্তু সে গুলো আঘাতের ফলে সৃস্ট নয়।
প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরন- বিস্ফোরনস্থলের ৪০ মাইল দক্ষিনে ভানাভারা শহরের সেমেনভ ( S. Semenov) ১৯৩০ সালে বিজ্ঞানী কুলিকের কাছে বর্ননা করেছিলেন তার সে দিনের অভিজ্ঞতার কথা।
“ সে দিন আমি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায়চেয়ারে বসেছিলাম উত্তরদিকে মুখ করে। হঠাৎ তাকিয়ে দেখলাম উত্তরের আকাশ চিরে দুই ভাগ হয়ে গেল। সে ফাক দিয়ে বেরিয়ে এল আগুন। সারা উত্তর দিকের আকাশের পুরোটা জুড়ে আগুন আর আগুন। সে থেকে আসছিল প্রচন্ড তাপ। মনে হল আমার গায়ের শার্টে আগুন লেগে গেছে। খুলে ফেলতে চাইলাম শার্ট। এ সময় এল প্রচন্ড সেই শব্দ। ছিটকে পড়লাম চেয়ার থেকে কয়েক মিটার দূরে। গরম বাতাসের হলকা ঘিরে ধরল এলাকাকে। কেপে উঠল মাটি। কিছুক্ষন জ্ঞানহীন পড়ে রইলাম মাটির উপরে , মনে হচ্ছিল ছিটকে আসা পাথরের চাই মুহুর্তে এসে পিষে দেবে আমাকে। কিছুক্ষন পর আবিস্কার করলাম বেচে আছি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষেত খামারের ফসল,এলাকার অনেক বাড়ীঘরদোরের চুর্নবিচুর্ন কাচের জানালা, ছাদ ইত্যাদি”
বিস্ফোরনের ব্যাখ্যা-
১) উল্কাপিন্ড? – টাঙ্গুস্কার বিস্ফোরনের সর্বাধিক গৃহীত মতবাদ হল যে এটি ছিল বিশাল উল্কাপিন্ড যা মাটি থেকে ৬-১০ কিলোমিটার উপরে এসে জ্বলে ওঠে। প্রতিনিয়তই বহির্বিশ্বের উল্কাপিন্ড ঢুকে পড়ছে বায়ুমন্ডলে আর প্রচন্ড বেগের ফলে বায়ুমন্ডলের সাথে সঙ্ঘর্ষে তা জ্বলে ঊঠে ছাই হয়ে যাচ্ছে। ৩০ মিটার ব্যাসের উল্কাপিন্ড বায়ুমন্ডলে ২০ কিলোটন শক্তিতে বিস্ফোরিত হতে সক্ষম। কিলোটন মাপের উল্কাপিন্ডের বিস্ফোরন বছরে দু একবার ঘটছে বায়ুমন্ডলের উচুতে- আমেরিকান বিজ্ঞানীদের ধারনা এ রকমই। আর টাঙ্গুস্কার মত মেগাটন মাপের বিস্ফোরনের উপযোগী উল্কা পিন্ড ৩০০ বছরে একবার আঘাত হানে পৃথিবীতে।
১)ধুমকেতু না উল্কাপিন্ড?- বৃটিশ বিজ্ঞানী F.J.W. Whipple টাঙ্গুস্কা বিস্ফোরন সম্পর্কে বলেন”এটি ছিল বরফ এবং ধুলাবালির ছোটখাট ধুমকেতু। প্রচন্ড বেগে ধেয়ে এসে বরফ এবং ধুলাবালি বায়ুমন্ডলের সংস্পর্শে এসে তা জলে ওঠে এবং পৃথিবীপৃষ্ঠে পৌছানোর আগেই তা ভষ্মিভুত হয় তাই কোন আঘাতের গর্ত খুজে পাওয়া যায় নি। ঐ সময়ে ইউরোপের আকাশে কয়েকদিন দেখা যায় ধুমকেতু। বিজ্ঞানী কার্ল সাগান মনে করেন বরফের ধুমকেতু’র আঘাতের ফলেই ঘটে টাঙ্গুস্কার বিস্ফোরন।

৩) এন্টীম্যাটার?

৪) ব্লাক হোল – খুব গ্রহনযোগ্য না হলেও দু একজন বিজ্ঞানী দাবী করেন ব্লাকহোল টাঙ্গুস্কা হয়ে পৃথিবীর মধ্য দিয়ে চলে যায়।
Tunguska blasts ufo
৫) ভিনগ্রহের মহাশুন্যযান?
রুশ লেখক আলেক্সান্ডার কাজানাতসেভ টাঙ্গুসকা বিস্ফোরন নিয়ে লেখেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী "The Explosion" । অনেকে ধারনা করেন পারমানবিক শক্তিচালিত ভিনগ্রহের মহাশুন্যযানে বিস্ফোরন ঘটে টাঙ্গুস্কার উপর । দু একজন বিজ্ঞানী ভিনগ্রহের মহাশুন্যযানের ধ্বংশাবশেষ খুজে পাওয়ার ও দাবী করেছেন। এদের ই একজন হলেন , Dr. Yuri Labvin,। ২০০৯ সালে টাঙ্গুস্কাতে খুজে পাওয়া বিচিত্র চিহ্ন আঁকা কোয়ার্জের টুকরোকে মহাশুন্যযানের কন্ট্রোল প্যানেলের ধ্বংশাবশেষ হিসেবে দাবী জানান।

সূত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/Tunguska_event
      http://science.nasa.gov/science-news/science-at-nasa
      http://www.unmuseum.org/siberia.htm 

আজও রহস্যময় ভয়নিখের আবিষ্কার করা হস্তলিখিত পান্ডুলিপি

পান্ডুলিপি কথাটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ঊঠে ধুলিধুসর কত গুলো কাগজের সমষ্টি – যা একজন লেখকের বহু সাধনার ফসল, একজন প্রাকাশকের কাঙ্খিত জিনিস অথবা একজন পাঠকের কৌতুহল, প্রচীন পান্ডুলিপি সংগ্রহ করা বা সংরক্ষন করা অনেকের পেশা। পান্ডুলিপি কিনে চড়া দামে বিক্রি করা এক লাভজনক ব্যাবসাও বটে ।কিছু কিছু পান্ডুলিপি ঘিরে তৈরী হয়েছে অনেক অনেক রহস্যময়তা, গল্প গাথা
ভয়নিখের পান্ডুলিপি
 তেমনি এক পান্ডুলিপি “ভয়নিখের পান্ডুলিপি। এই পান্ডুলিপি রহস্যময়তার শেষ নেই। ভয়নিখের পান্ডুলিপি পাওয়া যায় আজ থকে ৮৫ বছর আগে। ভয়নিখ ছিলেন নিউ ইয়র্ক শহরের এক পুরানো বই ব্যাবসায়ী। তার নেশা আর পেশা ছিল পুরানো পান্ডুলিপি সংগ্রহ করে পরে সুযোগ মত চড়া দামে বিক্রি করা।এ ভাবেই পুরানো বইর মধ্যে থেকে হঠাৎ করেই ভয়নিখ পেয়ে যান আলোচ্য পান্ডুলিপি। প্রথমে তিনি বুজে উঠতে পারেননি যে ওটা এত আলোচার বিষয় হবে। বিক্রি করে দিলেন। কিন্তূ হাতছাড়া হবার পর বুজতে পারেন এর মূল্য। কিন্তূ ততদিনে রাগে দঃখে মাথার চুল ছেড়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিলনা।

তবে ভয়নিখে লাভের মধ্যে লাভ হয়েছে একটাই পান্ডুলিপির সাথে তার নাম চিরদিনের জন্য জড়িয়ে গেছে। রহস্যময় এই পান্ডুলিপি নিয়ে এত গবেষনা আলোচনা হয়েছে যা বলার মত না। কিন্তূ এত গবেষনা করেও এর মূল রহস্য আজ পর্যন্ত কেউ বের করতে পারেনি। সম্ভব হয়নি এর মুল রহস্য উদ্বার করার। সৃষ্টি হয়েছে নানা গুজব।
ভয়নিখের পান্ডুলিপি
গুজবের একটিহ হল – পান্ডুলিপিটি সে সব রহস্যময় আলকেমিদের কোন একজনের যারা অপরসায়নের মাধ্যমে সোনা তৈরীর চেষ্টা করতেন, এবং পান্ডুলিপিতে সেই সোনা তৈরীর গোপন কথা বলে দেয়া হয়েছে। আবার কেঊ কেঊ মনে করতেন পান্ডুলিপিতে জোতিবিদ্যার কথা লেখা আছে- মহাকাশ বিদ্যার গো্পন রহস্য এই পান্ডুলিপিতে লেখা আছে বলে কেঊ কেউ নিঃসন্দেহ। আবার একদল মনে করেন পৃথিবী তৈরীর গুপ্ত কথা এখানে লেখা আছে।যারা আত্না পরোলৌকিক তা নিয়ে নাড়াচাড়া করেন তাদের জোড় দাবী এই পান্ডুলিতে আত্নার গোপন রহস্য, মৃত্যুর ওপারের কথা বলা হয়েছে, আরো লেখা আছে কিভাবে আত্নাকে ডেকা আনা যায় তার পূরো গোপন প্রক্রিয়া।

রহস্য আরো ঘনীভূত হল যখন গবেষনার পর মোটামুটি জানা গেল পান্ডুলিপিটি সত্তরের দশকের বিখ্যাত মধ্যযুগের ইংরেজ রজার বেকনের। বেকন যেহেতু নিজেই রহস্যময় ব্যাক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন আর নিজেও অনেক রহস্যময়তার জন্ম দিয়েছেন। মধ্যযুগের এই পন্ডিত নাড়াচাড়া করেননি এমন কোন শাখা নেই। পদার্থবিজ্ঞান, গনিত, অপরসায়ন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ভৌত বিজ্ঞান, জোতিষশাস্ত্র সর্বোপরি আধুনিক বিজ্ঞানের এমন কোন শাখা নেই যা নিয়ে তিনি ভাবেননি। বিজ্ঞানের বর্তমান অনেক আবিসস্কার তিনি সেই সত্তর দশকে লিখে রেখে গেছেন তার “মিরাবিলিস” নামক বইয়ে। যেগুলোর অনেকগুলোই পরবর্তিকালে সত্যি বলে প্রমানিত হয়েছে। অনেক ভবিষ্যত বানী করছে নস্ত্রাদামুর মত যা মিলে গেছে। তিনি যে আত্নার সাথে কথা বলতেন এবং তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতের কথা শুনতেন এ কথাও সমসাময়িক অনেকের লেখায় আসছে। আলকেমিষ্টদের সোনা তৈরীর কথা তিনি বিশ্বাস করতেন।
ভয়নিখের পান্ডুলিপি
নানারকম বিস্ময়কর ক্ষমতার অধিকরী রজার বেকনের পান্ডুলিপি পাওয়া গেছে শুনে নড়েচড়ে বসলেন গবেষকরা এর অর্থোদ্বারের জন্য। কিন্ত হাজার চেষ্টা করেও তারা “ক” অক্ষর ও বুজতে পারলেন না। কেননা পান্ডুলিপিতে ব্যাবহার করা হয়নি এমন কোন বিষয় নেই। সংখ্যা, ফুল, ফল, জ্যামিতিক নকশা, গ্রহ নক্ষত্র ছবি থেকে পদার্থ, আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রের এ হেন বিষয় নাই যা তিনি ওই পান্ডুলিপিতে লিখে যাননি। এক মহাদূর্বোধ্য ধাধা।
ভয়নিখের পান্ডুলিপি
কিন্তু এই ধাধা দেখেও থেমে থাকলেন না গবেষ্করা, অনেক চেষ্টা চরিত্রর পর যা জানা গেল পান্ডুলিপিটির মূল মালিক ছিলেন রোমান সম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট রুডলফ। রুডলফ জানতেন এটি রজার বেকনের লেখা। তাই তিনি তা যত্নের সাথে সংরক্ষন করেন। ১৬১২ সালে সম্রাট দ্বিতীয় রুডলফ মারা গেলে অনেক হাত ঘুরে সেটি প্রাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিখ্যাত বিজ্ঞানী মার্কাস মার্কির হাতে আসে। তিনি তা অত্যান্ত যত্নের সাথে সংরক্ষন করেন। ১৬৬৬ সালের কথা । মার্কির শিক্ষা গুরুবিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যামেনসিয়াস কির্চার কে মার্কির একটি চিঠি থেকে স্পষ্ট বুজা যায় পান্ডুলিপিটি সত্যি রজার বেকনের।

এরপর ইতালির রোম থেকে ১৬ মাইল দূরে সিসোরোর প্রাসাদের ধবংসাবাশেষের মধ্যে থেকেই সম্ভবত আত্নপ্রকাশ করে।সুযোগ সন্ধানী ভায়োনিখের দূর্দান্ত নেশার কারনে ওটা স্বাভাবিক ভাবে তার হাতে আসে। অবশ্য প্রচুর টাকার নিলামে। ভয়নিক ওটা বৈধ ভাবেই মনড্রাগন কলেজের কাছ থেকে কেনে ১৯১২ সালে।

ভয়নিখের এই রহস্যময় পান্ডুলিপি নিয়ে অতিসাম্প্রতিক এক গবেষনায় পান্ডুলিপি গবেষক ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্ট ব্রুমবাও আবিস্কার করেন এতে আলকেমীর ওপর বিক্ষিপ্ত কিছু কথা ও আধ্যত্নিক কিছু জটিল সংকেত আছে। যার অনেক কিছুই তিনি বুজেননি। সম্ভবত অমরত্বের একটা ব্যাপারেও আভাস দেয়া আছে। এত কিছুর পর ও কম্পুটারের এই উৎকর্ষতার যুগেও ভয়নিখের এই পান্ডুলিপি এখন ও রহস্যের আধার।

এক্সরে চোখ যুক্ত(x-ray eye) রাশিয়ান বালিকা

আগে তো শুধু সিনেমাতেই আজব আজব সুপার হিউম্যান দেখা যেতো। কিন্তু এখন বাস্তব জগতেও দেখা মেলে সুপার হিরোদের। তেমনি একজন অতিমানব হলো নাতাশা ডেমকিনা (Natasha Demkina) ডাক নাম নাটালিয়া। X-ray girl নাতাশা ১৯৮৭ সালে রাশিয়ার Saransk শহলে জন্মগ্রহন করেছে। তার মা Tatyana Vladimovna এর ভাষ্য মতে সে ছিলো একজন্য ভাল ছাত্রী। সে খুব দ্রুত কোন কিছু শিখতে পারত। ১০ বছর পর্যন্ত সে একজন সাধারন বালিকাই ছিল। সমস্যাটা শুরু হল ১০বছর বয়সের পর থেকে।

নাতাশা অতিমানব natasha the x-ray girlনাতাশার কথা “একদিন আমি আমার মায়ের সাথে বাড়িতে ছিলাম এবং হঠাৎ আমি একটি দৃশ্য দেখতে পেলাম। আমি দেখলাম আমি আমার মায়ের শরীরের অভ্যান্তরে দেখতে পাচ্ছি এবং আমি তাকে তার বিভিন্ন অঙ্গ সম্পর্কে বলতে শুরু করলাম। এখন আমি আমার চোখকে যেকোন মুহুত্বে আমার সাধারন দৃষ্টি থেকে অস্বভাবিক দৃষ্টিতে পরিনত করতে পারি। আমি মানুষের শরীরের ভিতরের রঙ্গিন ছবি দেখতে শুরু করি এবং তার পরে উপলব্ধি করি।”

২০০৩ সালে তার এই আজব ক্ষমতার কথা স্থানীয় পত্রিকায় আসে। এই ঘটনার পরে স্থানীয় শিশু হাসপাতালের একজন ডাক্তার তাকে পরিক্ষা করার জন্য তার(ডাক্তারের) পাকস্থলীর ছবি আঁকতে বললেন। নাটালিয়া তখন ডাক্তারের পাকস্থলীর ছবি আঁকলেন। তবে আজব ব্যাপার হলে নাটালিয়া ডাক্তারের পাকস্থলীতে আলসার এর চিত্র তুললে এবং সেটা একদম সঠিক স্থানে ছিল।

২০০৪ সালে তাকে নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদপত্র The Sun প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর পরে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ডাক্তারি পরিক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। ডিসকাভারি টিভি চ্যানেল তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে।

এছাড়াও তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের পরিক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কেউ বের করতে পারে নি। কেন বা কিভাবে সে মানুষ কিংবা কোন ধাতব বস্তুর অভ্যান্তরে কিংবা অপর পাশের বস্তুগুলো দেখতে পায়।
এক্সরে বালিকা নাতাশাX-ray girl Natasha Demkina এর নামে উকিপিডিয়াতে একটি পেইজ আছে সেখানে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাওয়া যাবে।

জনসাধারনের জন্য নিষিদ্ধ পাঁচটি রহস্যময় স্থান যা আজও সবার কাছে অজানা

এতবড় পৃথিবীতে আজব জিনিসের কমতি নেই। কিন্তু মানুষের সৃষ্টি রহস্যেরও অভাব নেই। পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে আপনি কখনোই যেতে পারবেন না যদি না আপনি সেই হাতে গোনা কয়েক জন মানুষের তালিকায় না হন। এই জায়গাগুলোর নিরাপত্তা এতই কঠোর যে ঐ জায়গার যাওয়া দূরের কথা খুব কম মানুষই জানে ঐ সব জায়গার কথা। এখানে সেই রকম পাঁচটি জায়গার কথা বলা হলো।

১। এরিয়া ৫১: 


এরিয়া-৫১এরিয়া ৫১ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় অবস্থিত। এরিয়া-৫১ নিয়ে সারা বিশ্বের মানুষের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। মোটামুটি একটি ঘোরের মধ্যেই আছে এই স্থানটি নিয়ে। এই স্থানটি জনসাধারনের জন্য নিষিদ্ধ। মূলত এটি একটি মিলিটারি বেইজ ক্যাম্প। কিন্তু মাঝে মাঝে অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিষ ঘটতে দেখা যায়। অনেকের মতে এখানে প্রায়ই অজানা বস্তু উড়তে দেখা যায় (UFO), অদ্ভুত অদ্ভুত প্রানীর মৃতদেহ পাওয়া যায়, ভয়ংকর শব্দ শোন যায়।তবে আজো সবার কাছে অজান এখানে কি হয়। আর কেনই বা এত নিরাপত্তা।

২। ইসি গ্রান্ড স্রিং(Ise Grand Shrine):

ইসি গ্রান্ড স্রিং
এই স্থানটি জাপানে অবস্থিতি। এটি জাপানের সবচেয়ে গোপনীয় এবং পবিত্র জায়গা। ধারনা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪ সালে ইসি গ্রান্ড স্রিং তৈরি করা হয়।তখন থেকে আজ পর্যন্ত জাপানের রাজ পরিবার এবং প্রিস্ট ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারেনি।প্রতি ২০ বছর পর পর এই স্রিংটি নতুন করে নির্মান করা হয়।ইতিহাসবিদদের ধারনা এখানে জাপানিজ সম্রাজ্যের মূল্যবান এবং হাজার হাজার বছরের পুরনো নথিপত্র লুকানো আছে যা বিশ্ববাসিদের কাছ অজানা।




৩। ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভস:

ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভস:


ভ্যাটিকান সিটি মানুষের কাছে যুগ যুগ ধরে একটি রহস্যময় স্থান। পৃথিবীর অনেক পুরানো ইতিহাসের স্বাক্ষী হল এই ভ্যাটিকান সিটি। এই সিক্রেট আর্কাইভটিকে বলা হয় স্টোর হাউজ অফ সিক্রেট(storehouse of secret)।খুব কম সংখ্যক মানুষই এই জায়গার ঢোকার অনুমতি পায়। আর্কাইভসটি ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। ধারনা করা হয় এখানে প্রায় ৮৪০০০ (চুরাশি হাজার)বই আছে। ইতিহাসবেত্তাদের মতে এখানে খ্রিষ্টান, প্যাগান, মেসনারিসহ আরো বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদের গোপন নথিপত্র এখানে সংরক্ষিত আছে।

৪। ক্লাব ৩৩ অফ ডিজনিল্যান্ড:

ক্লাব-৩৩-অফ-ডিজনিল্যান্ডডিজনিল্যান্ড মানুষের বিনোদনের জন্য বিখ্যাত। বিনোদনের জন্য পৃথিবীজোরা নাম এর। এখানের সবকিছুই সাধারন মানুষের জন্য পুরো উন্মুক্ত। কিন্তু একটি ক্লবকে খুব রেস্ট্রিটেড করে রাখা হয়েছে। ক্লবটির নাম ক্লব ৩৩। ক্লবটির প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং ওয়াল্ট ডিজনি নিজেই। এই সদস্য হবার প্রক্রিয়া এতই জটিল যে সদস্য পদের জন্য আবেদন করার প্রায় ১৪ বছর পরে আপনি জবাব পাবেন।



৫। মসকো মেট্রো-২:

মসকো-মেট্রো-২
এই স্থানটির অবস্থান রাশিয়া। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ আন্ডারগ্রাউন্ড শহর এটি। কিন্তু রাশিয়ান সরকার কখনই এই স্থানের অস্তিত্ব সীকার করে নাই। এই স্থানটি স্তালিনের আমলে তৈরি করা হয়েছিল।অধিকাশং মানুষ মনে করে যে এটি ক্রেম্লিনের সাথে FSB Headquarter এর সাথে সংযুক্ত হয়েছে। এতবড় একটি স্থানে মানুষের প্রবেশ অধিকারতো দূরের কথা ভালো ভাবে এর অস্তিত্বই জানে না।